সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২০ Time View

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও এর আশপাশে ধারাবাহিকভাবে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১২ নভেম্বর) বিজিবির সদর দফতর থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকায় মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নামানো হয়েছে। তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ জনবহুল এলাকায় সকাল থেকেই টহল ও অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি তারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাজ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন নির্বিঘ্ন রাখা এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা। বিশেষ করে সদরঘাট, গুলিস্তান, পল্টন, মিরপুর, গাবতলী, মহাখালী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে ঢাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতে বাসে আগুন দেওয়া, হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটানো এবং যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। এসব ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা মাথায় রেখে সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “আগামী ১৩ নভেম্বর কোনো বিশেষ নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে আমরা রাজধানীতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি একসঙ্গে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, রাজধানীর জনজীবন যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং কেউ যেন ভয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে ও গণপরিবহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং মেট্রোরেল স্টেশন এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তাই এখন সর্বাধিক অগ্রাধিকার। তাই প্রয়োজনে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় রাজধানীতে নাশকতা ঠেকানো সম্ভব হলে জনআস্থা ফিরতে শুরু করবে।

রাজধানীজুড়ে এখন বিজিবি ও পুলিশের যৌথ উপস্থিতি দৃশ্যমান—যা নাগরিকদের কাছে একটি স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি

Update Time : ০২:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও এর আশপাশে ধারাবাহিকভাবে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১২ নভেম্বর) বিজিবির সদর দফতর থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকায় মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নামানো হয়েছে। তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ জনবহুল এলাকায় সকাল থেকেই টহল ও অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি তারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাজ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন নির্বিঘ্ন রাখা এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা। বিশেষ করে সদরঘাট, গুলিস্তান, পল্টন, মিরপুর, গাবতলী, মহাখালী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে ঢাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতে বাসে আগুন দেওয়া, হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটানো এবং যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। এসব ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা মাথায় রেখে সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “আগামী ১৩ নভেম্বর কোনো বিশেষ নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে আমরা রাজধানীতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি একসঙ্গে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, রাজধানীর জনজীবন যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং কেউ যেন ভয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে ও গণপরিবহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং মেট্রোরেল স্টেশন এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তাই এখন সর্বাধিক অগ্রাধিকার। তাই প্রয়োজনে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় রাজধানীতে নাশকতা ঠেকানো সম্ভব হলে জনআস্থা ফিরতে শুরু করবে।

রাজধানীজুড়ে এখন বিজিবি ও পুলিশের যৌথ উপস্থিতি দৃশ্যমান—যা নাগরিকদের কাছে একটি স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।