সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইফ আলী খানকে  বাড়িতে ঢুকে একের পর এক  ছুরিকাঘাত, নিরাপদে রয়েছেন কারিনা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ২০২ Time View

prothomalo bangla 2024 08 19 qm73zxsb FjB5RiXVIAATbQk

কারিনা কাপুর খান ও সাইফ আলী খান দম্পতি। ইনস্টাগ্রাম থেকে

 

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান হামলার শিকার হয়েছেন। গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। বর্তমানে তাকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই-এর বরাতে খবরটি নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলা

বুধবার রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে সাইফ আলী খানের বান্দ্রার বাড়িতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। সে সময় বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই দুর্বৃত্তরা সাইফের বাড়ির গৃহকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাইফ সেখানে উপস্থিত হলে তাকে একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।

হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে ছয়টি গুরুতর আঘাত রয়েছে, যার মধ্যে দুটি আঘাত বেশ গভীর।

লীলাবতী হাসপাতালের চিকিৎসকরা যা বললেন

হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী নীরজ উত্তমণি বলেছেন, “রাত ৩টা ৩০ মিনিটে সাইফকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে ছয়টি আঘাত রয়েছে, যার মধ্যে একটি আঘাত মেরুদণ্ডের কাছাকাছি। তার অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউরোসার্জন নীতিন ডাঙ্গে, কসমেটিক সার্জন লীনা জৈন, এবং অবেদনবিদ নিশা গান্ধী তার অস্ত্রোপচার করছেন। সফল অস্ত্রোপচারের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।”

কারিনা দুই ছেলে নিরাপদ

হামলার সময় বাড়িতে ছিলেন সাইফের স্ত্রী কারিনা কাপুর খান এবং তাদের দুই ছেলে তৈমুর আলী খানজাহাঙ্গীর আলী খান। তবে তারা সবাই নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মুম্বাই পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। এটি নিছক চুরির উদ্দেশ্যে হয়েছিল নাকি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার পর তদন্তে নেমেছে

পুলিশ

ঘটনার পরপরই মুম্বাই পুলিশ বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের সিনিয়র অফিসার বিক্রম দেশাই জানিয়েছেন, “আমরা হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাদের উদ্দেশ্য চুরি ছিল নাকি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। আমরা সাইফের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছি।”

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি

এ ঘটনার পর থেকে সাইফের পরিবার থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জানা গেছে, সাইফের মা শর্মিলা ঠাকুর এবং বোন সোহা আলী খান ইতোমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছেছেন।

বলিউডের সহকর্মী ও ভক্তরা সাইফের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তার জন্য প্রার্থনা করেছেন। অভিনেত্রী কাজল, পরিচালক করন জোহর, এবং অভিনেতা অজয় দেবগন ইতোমধ্যে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন।

বলিউডে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত যেসব তারকারা বান্দ্রা বা জুহুর মতো অভিজাত এলাকায় থাকেন, তাদের বাসার নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তুলেছেন অনেকে।

একজন চলচ্চিত্র সমালোচক বলেছেন, “সাইফ আলী খান একজন তারকা এবং রাজকীয় পরিবারের সন্তান। এমন একজন ব্যক্তির ওপর হামলা উদ্বেগজনক। বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশকে আরও সতর্ক হতে হবে।”

হামলার নেপথ্যে কী?

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে এর পেছনে কী কারণ রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলাকারীরা সাইফের পরিচিত কেউ কিনা, তা নিয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভক্তদের প্রার্থনা

সাইফ আলী খানের ভক্তরা এই ঘটনায় হতবাক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো ভক্ত তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। কেউ কেউ আবার মুম্বাই পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ী করে পোস্ট করেছেন।

একজন ভক্ত লিখেছেন, “আমাদের তৈমুরের আব্বু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন।”

আরেকজন লিখেছেন, “বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, সাইফ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরুন।

সাইফ আলী খানের ওপর এই হামলা বলিউডের জন্য বড় ধাক্কা। তার পরিবার এবং ভক্তরা এখন তার দ্রুত আরোগ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

পাঠক ও ভক্তদের প্রার্থনা—বলিউডের নবাব যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার হাসি মুখে পর্দায় ফিরতে পারেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাইফ আলী খানকে  বাড়িতে ঢুকে একের পর এক  ছুরিকাঘাত, নিরাপদে রয়েছেন কারিনা

Update Time : ১০:০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
কারিনা কাপুর খান ও সাইফ আলী খান দম্পতি। ইনস্টাগ্রাম থেকে

 

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান হামলার শিকার হয়েছেন। গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। বর্তমানে তাকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই-এর বরাতে খবরটি নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলা

বুধবার রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে সাইফ আলী খানের বান্দ্রার বাড়িতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। সে সময় বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই দুর্বৃত্তরা সাইফের বাড়ির গৃহকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাইফ সেখানে উপস্থিত হলে তাকে একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।

হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে ছয়টি গুরুতর আঘাত রয়েছে, যার মধ্যে দুটি আঘাত বেশ গভীর।

লীলাবতী হাসপাতালের চিকিৎসকরা যা বললেন

হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী নীরজ উত্তমণি বলেছেন, “রাত ৩টা ৩০ মিনিটে সাইফকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে ছয়টি আঘাত রয়েছে, যার মধ্যে একটি আঘাত মেরুদণ্ডের কাছাকাছি। তার অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউরোসার্জন নীতিন ডাঙ্গে, কসমেটিক সার্জন লীনা জৈন, এবং অবেদনবিদ নিশা গান্ধী তার অস্ত্রোপচার করছেন। সফল অস্ত্রোপচারের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।”

কারিনা দুই ছেলে নিরাপদ

হামলার সময় বাড়িতে ছিলেন সাইফের স্ত্রী কারিনা কাপুর খান এবং তাদের দুই ছেলে তৈমুর আলী খানজাহাঙ্গীর আলী খান। তবে তারা সবাই নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মুম্বাই পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। এটি নিছক চুরির উদ্দেশ্যে হয়েছিল নাকি কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার পর তদন্তে

নেমেছে পুলিশ

ঘটনার পরপরই মুম্বাই পুলিশ বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের সিনিয়র অফিসার বিক্রম দেশাই জানিয়েছেন, “আমরা হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাদের উদ্দেশ্য চুরি ছিল নাকি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। আমরা সাইফের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছি।”

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি

এ ঘটনার পর থেকে সাইফের পরিবার থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জানা গেছে, সাইফের মা শর্মিলা ঠাকুর এবং বোন সোহা আলী খান ইতোমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছেছেন।

বলিউডের সহকর্মী ও ভক্তরা সাইফের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তার জন্য প্রার্থনা করেছেন। অভিনেত্রী কাজল, পরিচালক করন জোহর, এবং অভিনেতা অজয় দেবগন ইতোমধ্যে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন।

বলিউডে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত যেসব তারকারা বান্দ্রা বা জুহুর মতো অভিজাত এলাকায় থাকেন, তাদের বাসার নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তুলেছেন অনেকে।

একজন চলচ্চিত্র সমালোচক বলেছেন, “সাইফ আলী খান একজন তারকা এবং রাজকীয় পরিবারের সন্তান। এমন একজন ব্যক্তির ওপর হামলা উদ্বেগজনক। বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশকে আরও সতর্ক হতে হবে।”

হামলার নেপথ্যে কী?

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে এর পেছনে কী কারণ রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলাকারীরা সাইফের পরিচিত কেউ কিনা, তা নিয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভক্তদের প্রার্থনা

সাইফ আলী খানের ভক্তরা এই ঘটনায় হতবাক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো ভক্ত তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। কেউ কেউ আবার মুম্বাই পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ী করে পোস্ট করেছেন।

একজন ভক্ত লিখেছেন, “আমাদের তৈমুরের আব্বু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন।”

আরেকজন লিখেছেন, “বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, সাইফ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরুন।

সাইফ আলী খানের ওপর এই হামলা বলিউডের জন্য বড় ধাক্কা। তার পরিবার এবং ভক্তরা এখন তার দ্রুত আরোগ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

পাঠক ও ভক্তদের প্রার্থনা—বলিউডের নবাব যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার হাসি মুখে পর্দায় ফিরতে পারেন।