পরকীয়া, নির্যাতন ও আস্থার সংকট: ৩৭ বছরের সংসারজীবন ভাঙনের মুখে গোবিন্দ-সুনীতা দম্পতি
- Update Time : ০২:৫২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৪৫ Time View

বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য জীবনের গল্প একসময় ছিল রূপকথার মতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্ক ক্রমশ ফাটল ধরতে শুরু করে, আর এখন তা পৌঁছেছে বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে। ভারতীয় বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হটারফ্লাই নিশ্চিত করেছে, সুনীতা মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন।
আইনি নথি অনুসারে, সুনীতা হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৫-এর ধারায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে স্বামী গোবিন্দ পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন, সংসারে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন এবং দাম্পত্য সম্পর্কে প্রতারণা করেছেন। মামলার শুনানি চলাকালীন ২৫ মে আদালত গোবিন্দকে তলব করলেও তিনি সেদিন আদালতে হাজির হননি, যা নিয়ে আদালত শোকজ নোটিশ জারি করেছে। অন্যদিকে, সুনীতা নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থেকে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারে কাউন্সেলিং সেশনে যাচ্ছেন।
ইউটিউব ভিডিওতে কষ্টের প্রকাশ
এই সম্পর্ক ভাঙনের ইঙ্গিত আসলে অনেক আগেই পাওয়া গিয়েছিল। সুনীতা তাঁর ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ্যে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য বহুদিন ধরে প্রার্থনা করছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি ঈশ্বরের কাছে বারবার প্রার্থনা করেছি যাতে আমার বিয়ে বাঁচে। কিন্তু সেটা হয়নি।”
আবেগঘন ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “যে আমার ঘর ভাঙার চেষ্টা করবে, যে আমার মনকে আঘাত করবে, তার ভালো হবে না। একজন ভালো মানুষকে এভাবে আঘাত দেওয়া উচিত নয়। আমি এখন আর কাউকে বিশ্বাস করি না।”
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বলিউড মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দম্পতির সম্পর্ক হয়তো অস্থায়ীভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে সুনীতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেন। জানা গেছে, তিনি কয়েক মাস ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকছেন এবং চলতি বছর নিজের জন্মদিনও একা উদযাপন করেছেন।
পরিবারে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন
গোবিন্দ এবং সুনীতার সংসার ছিল দীর্ঘ ৩৭ বছরের। তাঁরা ১৯৮৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁদের দুই সন্তান—টিনা ও যশবর্ধন। এতদিন তাঁদের পরিবার বলিউডের অন্যতম স্থিতিশীল দাম্পত্য সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে নানা গুঞ্জন দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে পরকীয়ার অভিযোগ ও মানসিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে আসায় আলোচনা তীব্র হয়েছে।
গোবিন্দর অস্বীকৃতি ও ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি
যদিও সুনীতার অভিযোগ ও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো সরব, অভিনেতার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছে যে বিষয়টি অতটা গুরুতর নয়। সূত্রটির দাবি, “এখন কিছু সমস্যা দেখা দিলেও ডিভোর্সের প্রশ্নই আসে না। পুরোনো কিছু বিষয়কে নতুন করে টেনে এনে মিডিয়া মশলা মিশিয়ে প্রচার করছে।”
গোবিন্দ-সুনীতা দম্পতি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অভিনেতার ম্যানেজার শশী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সব দম্পতির মধ্যেই কিছু না কিছু মতবিরোধ থাকে। এসব বিষয়কে ইচ্ছে করে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।”
বলিউড মহলে প্রতিক্রিয়া
বলিউডে দীর্ঘদিন কাজ করা এই জনপ্রিয় দম্পতির বিচ্ছেদের খবরে ভক্তরা বিস্মিত। গোবিন্দ ৯০-এর দশকের অন্যতম সফল অভিনেতা, যিনি কমেডি ও পারিবারিক সিনেমার জন্য বিখ্যাত। তাঁর ক্যারিয়ারে সুনীতার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য; তিনি সবসময় স্বামীর ক্যারিয়ার গঠনে নেপথ্যে থেকেছেন। তাই তাঁদের দাম্পত্য ভাঙনের খবর অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।
সমালোচনা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
ভারতে তারকাদের দাম্পত্য ভাঙনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার, গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির চাপ এবং ব্যক্তিগত জীবনের প্রকাশ্যতা অনেক সময় সম্পর্কের সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দাম্পত্য সম্পর্কেও যদি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান বজায় না থাকে, তবে সম্পর্ক ভেঙে পড়তে পারে।
গোবিন্দ-সুনীতার বিচ্ছেদের এই সংবাদ সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে আদালতের শুনানি প্রক্রিয়া চলছে। আগামীতে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এই ৩৭ বছরের সংসার আসলেই শেষ হবে কিনা।










