আগামী ৯ অক্টোবর রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে: জামায়াত আমির
- Update Time : ০৯:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৪
- / ১৭৪ Time View

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী ৯ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে মূলত একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে, রাষ্ট্র পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য অপরিহার্য বলে তারা মনে করে। তাদের মতে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আগে রাষ্ট্রের ভেতরে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা জরুরি, কারণ রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে না।
শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডা. শফিকুর রহমান এই বক্তব্য দেন। উল্লেখযোগ্য যে, তার আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াতে ইসলামী সরকারকে দুটি পৃথক রোডম্যাপ দিয়েছে—একটি রোডম্যাপ সংস্কারের জন্য, অন্যটি নির্বাচন নিয়ে। তবে তাদের মূল দাবি হলো, প্রথমে রাষ্ট্রের সংস্কার করতে হবে, তারপর নির্বাচন। তাদের প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনের পথ তৈরি করা।
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। তার মতে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং জনগণের আস্থা কমে গেছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য কিছু মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য এবং সরকারকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়েও কথা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ ও সরকার একত্রিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রগুলোকে প্রতিহত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কাজ করা, যাতে তারা জাতির কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারে।
দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব হবে না। যদি জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একত্রে কাজ করে, তাহলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনরা নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারবেন।
এর আগে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের জন্য যমুনায় প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, আ ন ম শামসুল ইসলাম, এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
















