১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত অনুমোদন
- Update Time : ০২:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ৮৫ Time View

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিশাল এই আর্থিক চাপ সামাল দিতে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার একসঙ্গে পুরো বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ মূল বেতন কার্যকর হবে এবং শেষ ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সম্পূর্ণ সমন্বয় করা হবে।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য কাঠামো, ব্যয় পরিকল্পনা, রাজস্ব আদায়ের অবস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। সবদিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনার ফলে আগামী জুলাই থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই নিশ্চিত। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতিতে এককালীন চাপ তৈরি হবে না। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনাও তুলনামূলক সহজ থাকবে।
এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই সুপারিশ কার্যকর হলে বিভিন্ন গ্রেডে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে ১:৯.৪।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার।
নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













