নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রস্তুতি, পূর্ণ সুবিধা মিলতে পারে ২০২৯ সালে
- Update Time : ০২:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ১১১ Time View

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ সুবিধা কার্যকর হতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা
সরকার একবারে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ এড়াতে নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়ে কাজ চলছে।
প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা ধীরে ধীরে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এই নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী উপকৃত হতে পারেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপে কর্মচারীরা
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকরের পর গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম, বাসাভাড়া এবং চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে রয়েছেন।
তাদের দাবি, আগামী জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবে, যাতে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান।
প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ (সম্ভাব্য)
নিচে গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর একটি তালিকা তুলে ধরা হলো। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
|
গ্রেড |
প্রস্তাবিত বেতন স্কেল |
|
গ্রেড ১ |
১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত) |
|
গ্রেড ২ |
১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ |
|
গ্রেড ৩ |
১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ |
|
গ্রেড ৪ |
১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ |
|
গ্রেড ৫ |
৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ |
|
গ্রেড ৬ |
৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ |
|
গ্রেড ৭ |
৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ |
|
গ্রেড ৮ |
৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ |
|
গ্রেড ৯ |
৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ |
|
গ্রেড ১০ |
৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ |
|
গ্রেড ১১ |
২৫,০০০ – ৬০,৫০০ |
|
গ্রেড ১২ |
২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ |
|
গ্রেড ১৩ |
২৪,০০০ – ৫৮,০০০ |
|
গ্রেড ১৪ |
২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ |
|
গ্রেড ১৫ |
২২,৮০০ – ৫৫,২০০ |
|
গ্রেড ১৬ |
২১,৯০০ – ৫২,৯০০ |
|
গ্রেড ১৭ |
২১,৪০০ – ৫১,৯০০ |
|
গ্রেড ১৮ |
২১,০০০ – ৫০,৯০০ |
|
গ্রেড ১৯ |
২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ |
|
গ্রেড ২০ |
২০,০০০ – ৪৮,৪০০ |
সম্ভাব্য প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বাড়বে। তবে একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অন্যথায় বেতন বৃদ্ধি পেলেও বাস্তব জীবনে তার সুফল সীমিত হতে পারে।
সম্ভাব্য শিরোনাম
১. নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রস্তুতি, পূর্ণ সুবিধা মিলতে পারে ২০২৯ সালে
২. সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, আসছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো
৩. ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নবম পে-স্কেল, উপকৃত হবেন ২৩ লাখ মানুষ
৪. নতুন পে-স্কেলে বাড়তে পারে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা
৫. দ্রব্যমূল্যের চাপে দ্রুত নবম পে-স্কেলের দাবি সরকারি কর্মচারীদের













