সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো দীপু মনি, রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / ১৩০ Time View

 

রাজধানীর মতিঝিলের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রূপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৭ মে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন। সেই আদেশ অনুযায়ী আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অভিযান চলাকালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনি আন্তর্জাতিক পরিসরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের দমন করেছে।

একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবু তাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে উপস্থাপন করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

এই মামলায় ইতোমধ্যে আরও ছয়জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় মোট ৫৮ জন নিহত হন। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো দীপু মনি, রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে

Update Time : ১২:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

 

রাজধানীর মতিঝিলের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রূপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ৭ মে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন। সেই আদেশ অনুযায়ী আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অভিযান চলাকালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনি আন্তর্জাতিক পরিসরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের দমন করেছে।

একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল হক বাবু তাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে উপস্থাপন করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

এই মামলায় ইতোমধ্যে আরও ছয়জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় মোট ৫৮ জন নিহত হন। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।