সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪৯ Time View

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার নেই এবং তাকে অবিলম্বে অপসারণ করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করা প্রয়োজন। শুধু অপসারণ নয়, তাকে গ্রেপ্তারও করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কোনো অধিকার নেই, সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ারও কোনো অধিকার নেই।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সময় দেশের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি ছিল জাতীয় সরকার গঠন, অন্যটি ছিল সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। তার দাবি, জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএনপি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের হাতে দুটি অপশন ছিল। আমরা জাতীয় সরকার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি সেটি মানেনি। আরেকটি অপশন ছিল সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া। সেটা হলে বিএনপি আজ সংসদে এসে বসতে পারত কি না, তা নিয়েই আমার সন্দেহ আছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল বিএনপি। তবে বর্তমানে সেই সাংবিধানিক সংকট আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এখন তো আর কোনো সাংবিধানিক সংকট নেই। সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপির মধ্যেই এমন আস্থাভাজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি দায়িত্ব নিতে পারবেন।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “গাধাকে দিয়ে হাল চাষ করানোর মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই।”

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য সংসদে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

Update Time : ০৫:২৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার নেই এবং তাকে অবিলম্বে অপসারণ করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করা প্রয়োজন। শুধু অপসারণ নয়, তাকে গ্রেপ্তারও করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কোনো অধিকার নেই, সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ারও কোনো অধিকার নেই।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সময় দেশের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি ছিল জাতীয় সরকার গঠন, অন্যটি ছিল সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। তার দাবি, জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএনপি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের হাতে দুটি অপশন ছিল। আমরা জাতীয় সরকার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি সেটি মানেনি। আরেকটি অপশন ছিল সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া। সেটা হলে বিএনপি আজ সংসদে এসে বসতে পারত কি না, তা নিয়েই আমার সন্দেহ আছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল বিএনপি। তবে বর্তমানে সেই সাংবিধানিক সংকট আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এখন তো আর কোনো সাংবিধানিক সংকট নেই। সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপির মধ্যেই এমন আস্থাভাজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি দায়িত্ব নিতে পারবেন।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “গাধাকে দিয়ে হাল চাষ করানোর মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই।”

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য সংসদে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।