সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, রূপপুরের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৩৩ Time View

বাংলাদেশ আজ বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত Rooppur Nuclear Power Plant-এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম আজ (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের কাতারে যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টায় এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এটিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত তৃতীয় প্রজন্মের অত্যাধুনিক VVER-1200 রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কোর-ক্যাচারসহ একাধিক উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও কেন্দ্রটিকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।

জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ায় মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহার করা হবে, প্রতিটিতে থাকবে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম রড। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর শুরু হবে Nuclear Fission প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

Bangladesh Atomic Energy Regulatory Authority গত ১৬ এপ্রিল প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে, যার ফলে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে এই কেন্দ্রের দুই ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, রূপপুরের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু

Update Time : ১২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ আজ বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত Rooppur Nuclear Power Plant-এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম আজ (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের কাতারে যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টায় এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এটিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত তৃতীয় প্রজন্মের অত্যাধুনিক VVER-1200 রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কোর-ক্যাচারসহ একাধিক উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও কেন্দ্রটিকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।

জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ায় মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহার করা হবে, প্রতিটিতে থাকবে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম রড। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর শুরু হবে Nuclear Fission প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

Bangladesh Atomic Energy Regulatory Authority গত ১৬ এপ্রিল প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে, যার ফলে এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে এই কেন্দ্রের দুই ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।