সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি: পলাতক দুই সাবেক সেনা সদস্যের খোঁজে জোর তৎপরতা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৪০ Time View

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে তদন্তে গতি এসেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমান এই নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলার অপর দুই প্রধান সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারে এবং অন্যজন দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ৫২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান তনুকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন এবং তার মাধ্যমেই তনুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাতায়াত শুরু হয়। পিবিআই কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তবে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়নি। তবুও রিমান্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা, যদিও তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি।

মামলার অপর দুই সন্দেহভাজনের পরিচয় নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তনুর বাবার দাবি, অভিযুক্ত সৈনিকের নাম জাহিদ। তবে পিবিআই বলছে, জাহিদ ও শাহীন আলম দুইজন আলাদা ব্যক্তি এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে।

এই মামলার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ডিএনএ পরীক্ষা। ২০১৭ সালে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায়। সম্প্রতি আদালতের অনুমতি নিয়ে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে ফেরার পথে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আইনজীবী ও সচেতন মহল।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি কাইমুল হক রিংকু আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া গেলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি: পলাতক দুই সাবেক সেনা সদস্যের খোঁজে জোর তৎপরতা

Update Time : ০৫:২৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে তদন্তে গতি এসেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমান এই নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলার অপর দুই প্রধান সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারে এবং অন্যজন দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ৫২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান তনুকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন এবং তার মাধ্যমেই তনুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাতায়াত শুরু হয়। পিবিআই কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তবে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়নি। তবুও রিমান্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা, যদিও তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি।

মামলার অপর দুই সন্দেহভাজনের পরিচয় নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তনুর বাবার দাবি, অভিযুক্ত সৈনিকের নাম জাহিদ। তবে পিবিআই বলছে, জাহিদ ও শাহীন আলম দুইজন আলাদা ব্যক্তি এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা হবে।

এই মামলার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ডিএনএ পরীক্ষা। ২০১৭ সালে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়া যায়। সম্প্রতি আদালতের অনুমতি নিয়ে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে ফেরার পথে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আইনজীবী ও সচেতন মহল।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি কাইমুল হক রিংকু আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া গেলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।