সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র লোডশেডিং কবে কমবে, জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৮৬ Time View

 

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ স্বস্তি মিলবে—এই প্রশ্নই এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তিনি বলেন, ভারতের Adani Power প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইভাবে SS Power-এর বাঁশখালী প্রকল্পেও উৎপাদন কমে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ পুনরায় সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানার ভাষ্য, এই দুটি উৎস থেকে মিলিয়ে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব করবে। এছাড়া বন্ধ থাকা আরও কিছু ইউনিট চালু হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে সাময়িকভাবে লোডশেডিং কমানো গেলেও এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে সরকারের ভর্তুকির চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সংকট শুধুমাত্র সাময়িক নয়; এটি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার প্রতিফলন। তাই স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আগামী সপ্তাহে কিছুটা স্বস্তি মিললেও লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তীব্র লোডশেডিং কবে কমবে, জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ১২:০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ স্বস্তি মিলবে—এই প্রশ্নই এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তিনি বলেন, ভারতের Adani Power প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইভাবে SS Power-এর বাঁশখালী প্রকল্পেও উৎপাদন কমে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ পুনরায় সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানার ভাষ্য, এই দুটি উৎস থেকে মিলিয়ে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব করবে। এছাড়া বন্ধ থাকা আরও কিছু ইউনিট চালু হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে সাময়িকভাবে লোডশেডিং কমানো গেলেও এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে সরকারের ভর্তুকির চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সংকট শুধুমাত্র সাময়িক নয়; এটি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার প্রতিফলন। তাই স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আগামী সপ্তাহে কিছুটা স্বস্তি মিললেও লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।