সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রান্সমিটার থেকে বিপজ্জনক বিদ্যুৎ সংযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১০:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১২৬ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ডিসি-এসপি রোডের কলেজপাড়া এলাকায় অবস্থিত আয়কর (আয়কর অফিস) কার্যালয়ের সামনে থাকা একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটার থেকে সরবরাহকৃত সংযোগকে ঘিরে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ট্রান্সমিটার থেকে সংযুক্ত অন্তত ১২ থেকে ১৪টি ভবনের প্রায় সব ফ্ল্যাটেই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, ট্রান্সমিটার থেকে আসা সংযোগ লাইনে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। বিশেষ করে নিউট্রাল ও ফেজ লাইনে সমানভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকায় দুই তারেই কারেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বাসাবাড়ির অভ্যন্তরে শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটছে এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন ফ্যান, ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ অন্যান্য ডিভাইস পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে সুইচ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও লাইট জ্বলছে এবং ফ্যান ঘুরছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সুইচবোর্ডেও কারেন্ট পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয়দের মতে, আর্থিং ক্যাবলেও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ও বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা জানান, ট্রান্সমিটারের ওভার ভোল্টেজ এবং নিউট্রাল লাইনের ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, আয়কর অফিসের সামনে থাকা ওই ট্রান্সমিটার থেকে যেসব ভবনে সংযোগ গেছে, সেসব ভবনেই এই সমস্যা সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, এই পরিস্থিতি একটি “মরণফাঁদ”-এ পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে না।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রান্সমিটার থেকে বিপজ্জনক বিদ্যুৎ সংযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

Update Time : ১০:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ডিসি-এসপি রোডের কলেজপাড়া এলাকায় অবস্থিত আয়কর (আয়কর অফিস) কার্যালয়ের সামনে থাকা একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটার থেকে সরবরাহকৃত সংযোগকে ঘিরে দেখা দিয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ট্রান্সমিটার থেকে সংযুক্ত অন্তত ১২ থেকে ১৪টি ভবনের প্রায় সব ফ্ল্যাটেই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, ট্রান্সমিটার থেকে আসা সংযোগ লাইনে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। বিশেষ করে নিউট্রাল ও ফেজ লাইনে সমানভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকায় দুই তারেই কারেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বাসাবাড়ির অভ্যন্তরে শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটছে এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যেমন ফ্যান, ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ অন্যান্য ডিভাইস পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে সুইচ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও লাইট জ্বলছে এবং ফ্যান ঘুরছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সুইচবোর্ডেও কারেন্ট পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয়দের মতে, আর্থিং ক্যাবলেও পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ও বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা জানান, ট্রান্সমিটারের ওভার ভোল্টেজ এবং নিউট্রাল লাইনের ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, আয়কর অফিসের সামনে থাকা ওই ট্রান্সমিটার থেকে যেসব ভবনে সংযোগ গেছে, সেসব ভবনেই এই সমস্যা সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, এই পরিস্থিতি একটি “মরণফাঁদ”-এ পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে না।