সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১১৩ Time View

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা) দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হওয়ায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অর্থ পাচারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের অধীনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশে দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ বলেও তিনি জানান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৫:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা) দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হওয়ায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অর্থ পাচারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের অধীনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশে দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ বলেও তিনি জানান।