বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কর্তৃক আয়োজিত “মহান স্বাধীনতা ও আমাদের আবহমান সংস্কৃতি” বিষয়ক সাহিত্য আলোচনা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ১১:০০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
- / ১৭৮ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
আজ ২৮ মার্চ বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলীতে অবস্থিত স্বপ্নতরী মিলনায়তনে “মহান স্বাধীনতা ও আমাদের আবহমান সংস্কৃতি” শীর্ষক এক সাহিত্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিজয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মুহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. এম এ হানিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন উইজডম কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল মোনায়েম মুন্না, প্রিন্সিপাল খলিলুর রহমান, প্রিন্সিপাল আব্দুল হক আল আজাদ, ভাইস প্রিন্সিপাল মামদুদ মোল্লা শামীম, সাংবাদিক বিলাল হোসেন ,মাওলানা গোলাম রব্বানী এবং প্রিন্সিপাল আব্দুল হান্নান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে মহান স্বাধীনতার চেতনা ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির গুরুত্ব গভীরভাবে তুলে ধরেন। সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কেবল ভৌগোলিক মুক্তি নয়, বরং নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চার মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। প্রধান অতিথি ডা. এম এ হানিফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সাংস্কৃতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশেষ অতিথি ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, অপসংস্কৃতির আগ্রাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা রোধ করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উইজডম কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। প্রিন্সিপাল খলিলুর রহমান ও প্রিন্সিপাল আব্দুল হক আল আজাদ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আমাদের সমাজে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটাতে না পারলে জাতি তার নিজস্ব পরিচয় হারাবে। ভাইস প্রিন্সিপাল মামদুদ মোল্লা শামীম বলেন, তরুণ সমাজকে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে হলে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন ও মাওলানা গোলাম রব্বানী তাঁদের বক্তব্যে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সংস্কৃতির সঠিক দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও প্রশ্ন তোলেন—আমরা কি সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছি? আমরা কি স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে আমাদের মত প্রকাশ করতে এবং আমাদের সংস্কৃতি লালন করতে পারছি? এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একটি সুস্থ, মূল্যবোধসম্পন্ন ও সংস্কৃতিমনা সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ শহিদুল ইসলাম মুস্তাকিম। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী আনাস আবদুল্লাহ। কবিতা আবৃত্তি করেন আবুল বাশার খাদেম, কবি শরিফ সরকার, কবি গোলাম মোস্তফা ও কবি শরিফ উদ্দিন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দক্ষ উপস্থাপক গোলাম হাক্কানী খন্দকার, যিনি সাবলীল ভাষা ও পরিমিত উপস্থাপনার মাধ্যমে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
সবশেষে মাওলানা গোলাম রব্বানী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।












