তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব টেবিলেই থামিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- Update Time : ০২:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১৭৫ Time View

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং যে কোনো মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়াতে না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত, জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দেন। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী দাম বাড়ানোর পরিবর্তে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজে করে ডিজেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও দুটি জাহাজ আসবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, কোনোভাবেই যেন জ্বালানি তেলের মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়। এ জন্য বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি সবাইকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্যও আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিয়ে কেউ জ্বালানি তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে রোববার থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে কি না তা যাচাই করা যায়।
এদিকে জ্বালানি তেল রেশনিং কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র ভিড়, হুড়াহুড়ি ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১২৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে তেল সংকটের কারণে শনিবার দুপুরের মধ্যেই শতাধিক ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।













