সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্বশীলদের নিয়ে জামায়াতের শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৩:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / ১৭২ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ৫ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে জেলার সকল দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বৈঠক হয়েছে। শিক্ষা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত  হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কমিউনিটি সেন্টার–এ। জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির ও মজলিশে শুরার সদস্য প্রিন্সিপাল মোবারক হোসাইন। তিনি তার বক্তব্যে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের মধ্যে ঐক্য, দায়িত্ববোধ এবং ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর তিনি দারসুল কুরআন পেশ করেন। দারসুল কুরআনে তিনি সূরা নাহল-এর ৯0 নম্বর আয়াতের আলোকে মানবজীবনে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং আল্লাহর বিধান অনুসরণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, কুরআনের শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে এবং সমাজে ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ অপরিহার্য।

আয়াতটি হলো:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। আর তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অন্যায় এবং সীমালঙ্ঘন থেকে। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।

পরবর্তীতে আলোচনা পেশ করেন কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বশীল ও মজলিশে শুরার সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সাত্তার। তিনি “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আনুগত্য” শীর্ষক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি সংগঠনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হলে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক আস্থা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দায়িত্বশীলদের সংগঠনের আদর্শ ও নীতিমালার প্রতি অটল থাকার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল ও মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা এটিএম মাসুম। তিনি নির্বাচন-পরবর্তী দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি সংগঠনের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে তার সদস্যদের শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতার উপর। তিনি উপস্থিত দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান—ভালোভাবে কথা শোনা, তা গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম। তিনি কর্মশালার বিভিন্ন পর্ব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন এবং উপস্থিত দায়িত্বশীলদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন জেলা আমির প্রিন্সিপাল মোবারক হোসাইন। তিনি কর্মশালায় আলোচিত বিষয়গুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্বশীলকে শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করতে হবে। সমাপনী বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়েই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর জুনায়েদ হাসান, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি ডা. আবু হানিফ, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি প্রফেসর আক্তার হোসেন, জেলা মিডিয়া বিভাগের প্রধান কাজী সিরাজুল ইসলাম, কাজী ইয়াকুব আলী, মাওলানা আবুল বাশার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর আমির মাস্টার শাখাওয়াত হোসেনসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর, কসবা, সরাইল, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও আশুগঞ্জ উপজেলার থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্বশীলদের নিয়ে জামায়াতের শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৩:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ৫ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে জেলার সকল দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বৈঠক হয়েছে। শিক্ষা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত  হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কমিউনিটি সেন্টার–এ। জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির ও মজলিশে শুরার সদস্য প্রিন্সিপাল মোবারক হোসাইন। তিনি তার বক্তব্যে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের মধ্যে ঐক্য, দায়িত্ববোধ এবং ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর তিনি দারসুল কুরআন পেশ করেন। দারসুল কুরআনে তিনি সূরা নাহল-এর ৯0 নম্বর আয়াতের আলোকে মানবজীবনে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং আল্লাহর বিধান অনুসরণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, কুরআনের শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে এবং সমাজে ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ অপরিহার্য।

আয়াতটি হলো:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

বাংলা অর্থ:

নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। আর তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অন্যায় এবং সীমালঙ্ঘন থেকে। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।

পরবর্তীতে আলোচনা পেশ করেন কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বশীল ও মজলিশে শুরার সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল সাত্তার। তিনি “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আনুগত্য” শীর্ষক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি সংগঠনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হলে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক আস্থা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দায়িত্বশীলদের সংগঠনের আদর্শ ও নীতিমালার প্রতি অটল থাকার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল ও মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা এটিএম মাসুম। তিনি নির্বাচন-পরবর্তী দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি সংগঠনের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে তার সদস্যদের শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতার উপর। তিনি উপস্থিত দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান—ভালোভাবে কথা শোনা, তা গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম। তিনি কর্মশালার বিভিন্ন পর্ব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন এবং উপস্থিত দায়িত্বশীলদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন জেলা আমির প্রিন্সিপাল মোবারক হোসাইন। তিনি কর্মশালায় আলোচিত বিষয়গুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্বশীলকে শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করতে হবে। সমাপনী বক্তব্যে তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়েই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর জুনায়েদ হাসান, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি ডা. আবু হানিফ, জেলা পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি প্রফেসর আক্তার হোসেন, জেলা মিডিয়া বিভাগের প্রধান কাজী সিরাজুল ইসলাম, কাজী ইয়াকুব আলী, মাওলানা আবুল বাশার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর আমির মাস্টার শাখাওয়াত হোসেনসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর, কসবা, সরাইল, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও আশুগঞ্জ উপজেলার থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।