দুর্নীতির শত শত অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে
- Update Time : ০২:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬০ Time View

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কার্যালয়ে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে বলে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগের পরিমাণ এত বেশি যে, এটি রেকর্ড সংখ্যায় পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। অধিকাংশ অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করেননি, তবে কিছু অভিযোগে নাম-পরিচয়সহ লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য অভিযোগের মতো এসব অভিযোগও নিয়মিত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হবে। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট আর্থিক অনিয়মের বিষয় রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ এবং আয়কর ফাঁকির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল-এর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়নে অনিয়মসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, টাকার বিনিময়ে জামিনের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পদায়নে অর্থ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-এর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিতর্ক রয়েছে।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর বিরুদ্ধে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-এর বিরুদ্ধেও টেন্ডার জালিয়াতি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ-এর বিরুদ্ধে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ গ্রহণ, কাজ না দেওয়া, বিদেশে অর্থ পাচার ও বেআইনি ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এছাড়া সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম-এর বিরুদ্ধে টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ জমা পড়েছে।
দুদক জানিয়েছে, সব অভিযোগই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে, সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ আমলযোগ্য হলে তদন্ত করা উচিত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন













