সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন যেভাবে হবে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:২৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩২ Time View

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রচলিত রীতিতে প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সভাপতিত্ব করবেন কে?

আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন—তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদের মতে, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন সদস্য অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করবেন। এরপর সেই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

শপথ সরকার গঠন

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। বিভিন্ন দলের সদস্যরা শপথ নেন। পরে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সংসদের অধিবেশন বসবে এবং সেখানেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে?

সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে হবে।

প্রক্রিয়াটি হলো—

  • একজন সংসদ সদস্য স্পিকার পদে কারও নাম প্রস্তাব করবেন এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবের কাছে লিখিত নোটিশ দেবেন।
  • অন্য একজন সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করবেন।
  • প্রস্তাবিত ব্যক্তি দায়িত্ব পালনে সম্মত—এ মর্মে বিবৃতি নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
  • একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচন হবে।

সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিনের মতে, যদি একাধিক প্রার্থী না থাকেন, তাহলে কণ্ঠভোটেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন। সাধারণত স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তার সভাপতিত্বেই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শপথ কার্যক্রম শুরু

নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি ঘোষণা করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণের পর তাদের সভাপতিত্বে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

সাংবিধানিক অবস্থান

সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কিংবা পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত তারা বহাল থাকেন। নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথের মাধ্যমে পূর্ববর্তী দায়িত্বের অবসান ঘটে।

বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সাধারণত সরকারি দল থেকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে—যা ভবিষ্যতে সংসদীয় ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন যেভাবে হবে

Update Time : ০২:২৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রচলিত রীতিতে প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সভাপতিত্ব করবেন কে?

আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন—তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদের মতে, এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন সদস্য অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করবেন। এরপর সেই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

শপথ সরকার গঠন

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। বিভিন্ন দলের সদস্যরা শপথ নেন। পরে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সংসদের অধিবেশন বসবে এবং সেখানেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে?

সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে হবে।

প্রক্রিয়াটি হলো—

  • একজন সংসদ সদস্য স্পিকার পদে কারও নাম প্রস্তাব করবেন এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবের কাছে লিখিত নোটিশ দেবেন।
  • অন্য একজন সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করবেন।
  • প্রস্তাবিত ব্যক্তি দায়িত্ব পালনে সম্মত—এ মর্মে বিবৃতি নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
  • একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচন হবে।

সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিনের মতে, যদি একাধিক প্রার্থী না থাকেন, তাহলে কণ্ঠভোটেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন। সাধারণত স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তার সভাপতিত্বেই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শপথ কার্যক্রম শুরু

নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি ঘোষণা করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণের পর তাদের সভাপতিত্বে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

সাংবিধানিক অবস্থান

সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কিংবা পদ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত তারা বহাল থাকেন। নতুন সংসদ গঠনের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথের মাধ্যমে পূর্ববর্তী দায়িত্বের অবসান ঘটে।

বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সাধারণত সরকারি দল থেকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের সুপারিশ করা হয়েছে—যা ভবিষ্যতে সংসদীয় ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।