পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু
- Update Time : ০৩:০১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৬৬২ Time View

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, পে স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা না করে কোনো মন্তব্য করা দায়িত্বশীল হবে না।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় নবম পে স্কেল কতটা বাস্তবায়নযোগ্য—তা নির্ধারণে বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়—এসব বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে বড় অঙ্কের ব্যয়ভার যুক্ত করার আগে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক—যেখানে শহর-গ্রাম, নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উৎপাদন, সেবা ও উদ্যোক্তা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। বাজারে সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষের মানসিকতায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা অর্থনৈতিক কাঠামোতেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে গণতান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করতে ডিরেগুলেশন ও লিবারলাইজেশনের কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে শুধু ম্যানুফ্যাকচারিং নির্ভর অর্থনীতি নয়, বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল স্রোতে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
বরিশালের শীতলপাটির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং অনলাইন বিপণনের সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশীয় পণ্যের জন্য দেশ-বিদেশে বড় বাজার গড়ে তোলা সম্ভব। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সুপারিশগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই না করে সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। ফলে পে স্কেল কার্যকরের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে আর্থিক সক্ষমতা, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।













