সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব ও ডিজিএফআইও বিলুপ্তির দাবি সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৬ Time View

 

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী মামলায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দিতে অংশ নেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “অনেকেই ভাবছেন, আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এ ব্যাপারে আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে, আমরা যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করি না কেন, সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে। আমাদের উচিত আত্মশুদ্ধির সুযোগকে হেলায় হারানো না।”

তিনি আরও দাবি করেন, র‍্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত এবং যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হোক। একই সঙ্গে তিনি ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করারও দাবি জানান। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “এই সংগঠন আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি সৃষ্টি করার পর বৈধতা হারিয়েছে।”

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, ক্রসফায়ার থামছে না দেখেই তিনি ডিজিএফআই, বিজিবি ও র‍্যাবের অফিসারদের পোস্টিং বন্ধ করেন। তিনি বলেন, “আমাকে অনেকে মনে করিয়ে দেন যে, আমি যা করছি, তা বিদ্রোহের শামিল। আমার উত্তর একটাই—হাশরের ময়দানে আমাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।”

চট্টগ্রামে হোটেল র‍্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডেকে র‍্যাব অফিসার দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এই স্বল্পতার কারণে র‍্যাবে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসর পর্যন্ত এই চাপ ছিল, কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “র‍্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা আমাকে সব সময় আচ্ছন্ন করত। আজ সুযোগ এসেছে সেই কাজটি সম্পন্ন করার। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ণ হবে না, বরং উচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। পুরো জাতি জানবে, সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না।”

জেরার এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, “হ্যাঁ, আমি একজন ডিহিউম্যানাইজড সেনা কর্মকর্তা। আমার চাকরিজীবনের ৪০ বছরে শিখেছি কীভাবে মানুষ হত্যা করতে হয়। শুধু আমি নই, পৃথিবীর সব সেনাসদস্যকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।”

আজকের জবানবন্দি শেষে তিনি পরবর্তী জেরার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ধার্য হন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

র‍্যাব ও ডিজিএফআইও বিলুপ্তির দাবি সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার

Update Time : ০৫:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী মামলায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দিতে অংশ নেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “অনেকেই ভাবছেন, আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এ ব্যাপারে আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে, আমরা যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করি না কেন, সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে। আমাদের উচিত আত্মশুদ্ধির সুযোগকে হেলায় হারানো না।”

তিনি আরও দাবি করেন, র‍্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত এবং যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হোক। একই সঙ্গে তিনি ডিজিএফআইও বিলুপ্ত করারও দাবি জানান। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “এই সংগঠন আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি সৃষ্টি করার পর বৈধতা হারিয়েছে।”

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, ক্রসফায়ার থামছে না দেখেই তিনি ডিজিএফআই, বিজিবি ও র‍্যাবের অফিসারদের পোস্টিং বন্ধ করেন। তিনি বলেন, “আমাকে অনেকে মনে করিয়ে দেন যে, আমি যা করছি, তা বিদ্রোহের শামিল। আমার উত্তর একটাই—হাশরের ময়দানে আমাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।”

চট্টগ্রামে হোটেল র‍্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ডেকে র‍্যাব অফিসার দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এই স্বল্পতার কারণে র‍্যাবে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানাই। আমার অবসর পর্যন্ত এই চাপ ছিল, কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “র‍্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা আমাকে সব সময় আচ্ছন্ন করত। আজ সুযোগ এসেছে সেই কাজটি সম্পন্ন করার। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ণ হবে না, বরং উচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। পুরো জাতি জানবে, সেনাবাহিনী কখনো দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয় না।”

জেরার এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, “হ্যাঁ, আমি একজন ডিহিউম্যানাইজড সেনা কর্মকর্তা। আমার চাকরিজীবনের ৪০ বছরে শিখেছি কীভাবে মানুষ হত্যা করতে হয়। শুধু আমি নই, পৃথিবীর সব সেনাসদস্যকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।”

আজকের জবানবন্দি শেষে তিনি পরবর্তী জেরার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ধার্য হন।