তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতন করেছিল ডিজিএফআই: সাবেক সেনাপ্রধান
- Update Time : ০৩:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৬৯ Time View

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ডিজিএফআই কার্যত মুখ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিল। এই সময়ে বিভিন্ন বেসামরিক ব্যক্তি, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের তুলে এনে নিজেদের সেলে রাখা হতো এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ গুম ও খুন সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান এই তথ্য জানান। বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, অন্য সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখার প্রবণতা একপর্যায়ে অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এতে যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করে ইচ্ছামতো আচরণ করা সম্ভব হতো এবং সংশ্লিষ্টরা নিজেদের কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারাতেন। এই সময়ে অনেক মন্ত্রী-এমপির নির্দেশে তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
তিনি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর কথাও তুলে ধরেন। সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ২০০৩ সালে র্যাব গঠনের আগে ওই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী অন্তত ১২ জন ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেছেন। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬০। অভিযানে জড়িতদের পরে দায়মুক্তি দেওয়া হয়, যা কার্যত ‘লাইসেন্স টু কিল’-এর সমতুল্য ছিল।
শুনানির শুরুতে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। একই সঙ্গে ৮ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া জবানবন্দি দিচ্ছেন।













