সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, বন্ধ সব অপারেশন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৭ Time View

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রোববার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ। জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙর (আউটার লাইটারেজ)—সব জায়গাতেই পণ্য খালাস ও পরিচালনার কাজ বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এনসিটি ইজারা বন্ধের পাশাপাশি তাদের আরও কয়েকটি দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বন্দরের সব কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। গতকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের নেতাদের হুমকি ও হয়রানি করছে। দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না।”

পরিষদের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, বন্ধ সব অপারেশন

Update Time : ১২:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রোববার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ। জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙর (আউটার লাইটারেজ)—সব জায়গাতেই পণ্য খালাস ও পরিচালনার কাজ বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এনসিটি ইজারা বন্ধের পাশাপাশি তাদের আরও কয়েকটি দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বন্দরের সব কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। গতকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের নেতাদের হুমকি ও হয়রানি করছে। দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না।”

পরিষদের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।