গুম সংক্রান্ত সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারে বাংলাদেশের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত
- Update Time : ০৩:১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৫৪ Time View

রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-সংক্রান্ত বাংলাদেশের দেওয়া সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে অনুচ্ছেদ ১৪(১)-সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনবিরোধী এই কনভেনশন ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩টি রাষ্ট্র এতে অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে যোগ দেয়। তবে অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—এই ছয়টি রাষ্ট্র সংরক্ষণী শর্ত আরোপ করেছিল।
এই সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এখন সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের ফলে সেই বাধা দূর হলো।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ফলে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। ফলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবার ন্যায়বিচারের পথে বাস্তব ও কার্যকর সুরক্ষা লাভ করবেন।
উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এটি একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় হবে এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে মানবাধিকার কর্মীরা এই পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।













