আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর মামলা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড
- Update Time : ০২:১৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৩ Time View

চব্বিশের জুলাই–আগস্ট গণআন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় সাতজনকে গুলি করে হত্যা এবং পরে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে আরও আটজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল–২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে ঘোষিত এটি প্রথম রায়, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায় ঘোষণার সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী ও মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।
অন্যদিকে পলাতক আট আসামির তালিকায় রয়েছেন ঢাকা–১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনিসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।
মামলার নথি অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। পরে তাঁদের মরদেহ ভ্যানে করে জড়ো করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহতরা হলেন—সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। গত বছরের ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
প্রসিকিউশন গত ২ জুলাই ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যার সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত ছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে।
রায়ে বলা হয়, এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই আইনের উদ্দেশ্য। প্রসিকিউশনের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।













