সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮৬ Time View

 

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচি বর্ধিত করার পাশাপাশি আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান সংগঠনের সভাপতি মো. ওয়ারেছ আলী এবং সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন দপ্তরের সামনে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হওয়ায় দেশের সব সরকারি কর্মচারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।

নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং কমিশনের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরও সরকার গেজেট প্রকাশে অযৌক্তিক গড়িমসি করছে, যা কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবিতে এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেননি, তাদেরও এই যৌক্তিক দাবিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে সব স্তরের কর্মকর্তা মহোদয়দের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন নেতারা।

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কঠোর কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, সরকার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করে, তাহলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের কর্মচারীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

তারা আরও বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারির আগে সরকার যদি পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওই দিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হবে। তবে দাবি উপেক্ষিত হলে ঘোষিত ভূখা মিছিল শোক মিছিলে রূপ নিতে পারে এবং তার পরপরই এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে, যা সরকারের কল্পনারও বাইরে।

শেষে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আবারও বিনীত অনুরোধ জানানো হয়—কর্মসূচি আরও কঠোর হওয়ার আগেই বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পে-স্কেল নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল

Update Time : ১০:০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচি বর্ধিত করার পাশাপাশি আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান সংগঠনের সভাপতি মো. ওয়ারেছ আলী এবং সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন দপ্তরের সামনে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হওয়ায় দেশের সব সরকারি কর্মচারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।

নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং কমিশনের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরও সরকার গেজেট প্রকাশে অযৌক্তিক গড়িমসি করছে, যা কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবিতে এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেননি, তাদেরও এই যৌক্তিক দাবিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে সব স্তরের কর্মকর্তা মহোদয়দের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন নেতারা।

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কঠোর কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, সরকার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করে, তাহলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের কর্মচারীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

তারা আরও বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারির আগে সরকার যদি পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওই দিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হবে। তবে দাবি উপেক্ষিত হলে ঘোষিত ভূখা মিছিল শোক মিছিলে রূপ নিতে পারে এবং তার পরপরই এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে, যা সরকারের কল্পনারও বাইরে।

শেষে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আবারও বিনীত অনুরোধ জানানো হয়—কর্মসূচি আরও কঠোর হওয়ার আগেই বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক।