সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’, শিগগিরই আদেশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৭৭ Time View

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন নামে এই বাহিনী পরিচিত হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) হিসেবে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বাহিনীটির নামের পাশাপাশি পোশাকেও পরিবর্তন আনা হবে। ইতোমধ্যে নতুন পোশাকের নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র‌্যাবের কাঠামো, ভূমিকা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, বাহিনীটির কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, র‌্যাব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এর নাম ছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট)। ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব এবং এর সাতজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন; তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনও তাদের সুপারিশে বলেছে, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে র‌্যাবের অতীত কার্যক্রম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে বাহিনীটির প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবিতে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বিএনপিও। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ

উদ্দিন আহমদ বলেন, র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংস্কারের আর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনীর ক্ষেত্রেও বিলুপ্তি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

র‍্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’, শিগগিরই আদেশ

Update Time : ০২:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন নামে এই বাহিনী পরিচিত হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) হিসেবে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বাহিনীটির নামের পাশাপাশি পোশাকেও পরিবর্তন আনা হবে। ইতোমধ্যে নতুন পোশাকের নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র‌্যাবের কাঠামো, ভূমিকা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, বাহিনীটির কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, র‌্যাব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এর নাম ছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট)। ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব এবং এর সাতজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন; তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনও তাদের সুপারিশে বলেছে, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে র‌্যাবের অতীত কার্যক্রম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে বাহিনীটির প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবিতে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বিএনপিও। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ

উদ্দিন আহমদ বলেন, র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংস্কারের আর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনীর ক্ষেত্রেও বিলুপ্তি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”