সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এপস্টেইন ফাইল কোনো কেলেঙ্কারি নয়, এটি পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারা’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৬ Time View

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইল’কে নিছক একটি কেলেঙ্কারি নয়, বরং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার নগ্ন ও ভয়াবহ চেহারার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই ইস্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “এপস্টেইন ফাইল কোনো কেলেঙ্কারি নয়; এটি সভ্যতার আয়না। এই আয়নার মাধ্যমে আমরা পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারাটা আবারও দেখে ফেললাম।” তার মতে, মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ও উদারনীতির নামে যেসব মূল্যবোধ প্রচার করা হয়, এই ফাইল সেগুলোর অন্তঃসারশূন্যতা ও গভীর নৈতিক অধঃপতনের এক করুণ দলিল।

তিনি লেখেন, রাষ্ট্রনায়ক, ধনকুবের শিল্পপতি, ক্রীড়া ও মিডিয়া জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং সংস্কৃতির নামকরা মুখ—যাদের অনেকেই বিশ্ববাসীর কাছে আদর্শ ও অনুসরণীয়—তাদের নাম শিশু পাচার, যৌন নির্যাতনসহ ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে উঠে আসা পশ্চিমা সমাজের ভণ্ডামিকেই উন্মোচিত করেছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সভ্যতার গভীরে প্রোথিত অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে চরম ভোগবাদ ও নৈতিকতাহীনতাকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। এর পরিণতিতে পরিবারব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, লজ্জা ও সংযমবোধ বিলুপ্ত হচ্ছে এবং একটি অন্ধকার ও ভয়ংকর বাণিজ্যিক জগত গড়ে উঠছে—যার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এপস্টেইন কাণ্ডে। আল্লাহভীতিহীন সমাজ বাহ্যিকভাবে যতই ঝকঝকে হোক, ভেতরে ভেতরে তা কতটা অধঃপতনের দিকে যেতে পারে—এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, এপস্টেইনের ঘটনাকে কেবল বিকৃত মানসিকতার ফল বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তার মতে, এত বিপুলসংখ্যক প্রভাবশালী মানুষের ধারাবাহিকভাবে এমন পাশবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ইঙ্গিত দেয়, এর পেছনে একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত অন্ধকার চর্চা রয়েছে। তিনি একে বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি শয়তানি উপাসনা ও তথাকথিত রিচুয়ালের সুসংগঠিত প্রকাশ বলেও আখ্যায়িত করেন।

জনপ্রিয় এই ইসলামি চিন্তাবিদ লেখেন, পশ্চিমারা মুসলমানদের ঈমান, আমল ও দ্বীনি রিচুয়াল নিয়ে উপহাস করে তাদের আধ্যাত্মিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। অথচ নিজেরা ঠিকই গোপনে তাদের স্যাটানিক ও অমানবিক রিচুয়াল চালু রেখেছে। এর বিপরীতে ইসলাম মানুষকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির আলোকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। ইসলামে নারী সম্মানিত, শিশু নিরাপদ, পরিবার একটি পবিত্র দুর্গ এবং নৈতিকতা রক্ষায় রয়েছে আইনগত ও আধ্যাত্মিক—দুই ধরনের সুরক্ষা।

শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এপস্টেইন ফাইল আমাদের সামনে সভ্যতার সংজ্ঞা নিয়েই মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। আমরা কোন পথে যাব—ভোগবাদকে সর্বোচ্চ সত্য মানা এক সংস্কৃতির দিকে, নাকি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সভ্যতার দিকে? আমরা কি অন্ধকার রিচুয়ালের পথ বেছে নেব, নাকি মহান আল্লাহর সঙ্গে পবিত্র সম্পর্ক গভীর করার পথেই অগ্রসর হব—এই সিদ্ধান্তই এখন মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘এপস্টেইন ফাইল কোনো কেলেঙ্কারি নয়, এটি পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারা’

Update Time : ০৩:১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইল’কে নিছক একটি কেলেঙ্কারি নয়, বরং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার নগ্ন ও ভয়াবহ চেহারার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই ইস্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “এপস্টেইন ফাইল কোনো কেলেঙ্কারি নয়; এটি সভ্যতার আয়না। এই আয়নার মাধ্যমে আমরা পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারাটা আবারও দেখে ফেললাম।” তার মতে, মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ও উদারনীতির নামে যেসব মূল্যবোধ প্রচার করা হয়, এই ফাইল সেগুলোর অন্তঃসারশূন্যতা ও গভীর নৈতিক অধঃপতনের এক করুণ দলিল।

তিনি লেখেন, রাষ্ট্রনায়ক, ধনকুবের শিল্পপতি, ক্রীড়া ও মিডিয়া জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং সংস্কৃতির নামকরা মুখ—যাদের অনেকেই বিশ্ববাসীর কাছে আদর্শ ও অনুসরণীয়—তাদের নাম শিশু পাচার, যৌন নির্যাতনসহ ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে উঠে আসা পশ্চিমা সমাজের ভণ্ডামিকেই উন্মোচিত করেছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সভ্যতার গভীরে প্রোথিত অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে চরম ভোগবাদ ও নৈতিকতাহীনতাকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। এর পরিণতিতে পরিবারব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, লজ্জা ও সংযমবোধ বিলুপ্ত হচ্ছে এবং একটি অন্ধকার ও ভয়ংকর বাণিজ্যিক জগত গড়ে উঠছে—যার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এপস্টেইন কাণ্ডে। আল্লাহভীতিহীন সমাজ বাহ্যিকভাবে যতই ঝকঝকে হোক, ভেতরে ভেতরে তা কতটা অধঃপতনের দিকে যেতে পারে—এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, এপস্টেইনের ঘটনাকে কেবল বিকৃত মানসিকতার ফল বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তার মতে, এত বিপুলসংখ্যক প্রভাবশালী মানুষের ধারাবাহিকভাবে এমন পাশবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ইঙ্গিত দেয়, এর পেছনে একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত অন্ধকার চর্চা রয়েছে। তিনি একে বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি শয়তানি উপাসনা ও তথাকথিত রিচুয়ালের সুসংগঠিত প্রকাশ বলেও আখ্যায়িত করেন।

জনপ্রিয় এই ইসলামি চিন্তাবিদ লেখেন, পশ্চিমারা মুসলমানদের ঈমান, আমল ও দ্বীনি রিচুয়াল নিয়ে উপহাস করে তাদের আধ্যাত্মিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। অথচ নিজেরা ঠিকই গোপনে তাদের স্যাটানিক ও অমানবিক রিচুয়াল চালু রেখেছে। এর বিপরীতে ইসলাম মানুষকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির আলোকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। ইসলামে নারী সম্মানিত, শিশু নিরাপদ, পরিবার একটি পবিত্র দুর্গ এবং নৈতিকতা রক্ষায় রয়েছে আইনগত ও আধ্যাত্মিক—দুই ধরনের সুরক্ষা।

শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এপস্টেইন ফাইল আমাদের সামনে সভ্যতার সংজ্ঞা নিয়েই মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে। আমরা কোন পথে যাব—ভোগবাদকে সর্বোচ্চ সত্য মানা এক সংস্কৃতির দিকে, নাকি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সভ্যতার দিকে? আমরা কি অন্ধকার রিচুয়ালের পথ বেছে নেব, নাকি মহান আল্লাহর সঙ্গে পবিত্র সম্পর্ক গভীর করার পথেই অগ্রসর হব—এই সিদ্ধান্তই এখন মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।