সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের এমডি শফিকুরসহ চারজন কারাগারে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১২২ Time View

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন—শফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। এদিন চার আসামিকেই আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিন চেয়ে আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষে উপপুলিশ পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে উত্তরা এলাকা থেকে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় শিশু দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ের প্রয়োজন আছে—এমন তথ্য নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানানো হয়। পরে মোস্তফার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হলে জানানো হয়, মেয়েটির বিয়ে থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ তারা বহন করবেন।

এতে সম্মতি দিয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনা নামের শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে দেন গোলাম মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তার বাবা। এরপর থেকে আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি তাকে।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে গোলাম মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ—তাকে নিয়ে যেতে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোহনাকে বুঝে দেওয়া হয়। এ সময় মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং সে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।

কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর বাবার সঙ্গে দেখা করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর করে এবং খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেয়।

এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের এমডি শফিকুরসহ চারজন কারাগারে

Update Time : ০৬:৫৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন—শফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। এদিন চার আসামিকেই আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিন চেয়ে আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষে উপপুলিশ পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে উত্তরা এলাকা থেকে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় শিশু দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ের প্রয়োজন আছে—এমন তথ্য নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানানো হয়। পরে মোস্তফার সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হলে জানানো হয়, মেয়েটির বিয়ে থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ তারা বহন করবেন।

এতে সম্মতি দিয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনা নামের শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে দেন গোলাম মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তার বাবা। এরপর থেকে আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি তাকে।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে গোলাম মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ—তাকে নিয়ে যেতে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোহনাকে বুঝে দেওয়া হয়। এ সময় মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং সে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।

কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মোহনা জানায়, ২ নভেম্বর বাবার সঙ্গে দেখা করার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর করে এবং খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেয়।

এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।