সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোট সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পেলে পরিণতি খুব খারাপ হবে: ইসি সানাউল্লাহ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৭ Time View

সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোট সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সব কাজ খোলামেলাভাবে করতে হবে, কোনো ধরনের লুকোছাপা চলবে না। নিরাপত্তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও শক্ত হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কেবল একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এর বাইরে কোথাও নয়।

তিনি আরও বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমার কাছে কোনো ছোট দল বা বড় দল নেই, নেই হেভিওয়েট বা লাইটওয়েট প্রার্থী—আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্দেশনার পরও যদি কেউ নিজের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পরিণতি হবে খুবই খারাপ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

তিনি জানান, এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোথাও কোনো ধরনের আতিথিয়েতা গ্রহণ করতে পারবেন না।

অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য তথ্য দ্রুত গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, গুজব ও অপতথ্যের প্রবণতা তত বাড়বে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনারা দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, পরিস্থিতি বুঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাও জরুরি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। এতে পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভোট সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পেলে পরিণতি খুব খারাপ হবে: ইসি সানাউল্লাহ

Update Time : ০২:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোট সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত কঠোর।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সব কাজ খোলামেলাভাবে করতে হবে, কোনো ধরনের লুকোছাপা চলবে না। নিরাপত্তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও শক্ত হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কেবল একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এর বাইরে কোথাও নয়।

তিনি আরও বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমার কাছে কোনো ছোট দল বা বড় দল নেই, নেই হেভিওয়েট বা লাইটওয়েট প্রার্থী—আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্দেশনার পরও যদি কেউ নিজের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পরিণতি হবে খুবই খারাপ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

তিনি জানান, এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোথাও কোনো ধরনের আতিথিয়েতা গ্রহণ করতে পারবেন না।

অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য তথ্য দ্রুত গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, গুজব ও অপতথ্যের প্রবণতা তত বাড়বে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনারা দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, পরিস্থিতি বুঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাও জরুরি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। এতে পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।