সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নির্বাচনকালীন বিকাশ-নগদ-রকেটে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯৬ Time View

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় লেনদেনের ওপর সাময়িক কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) একজন গ্রাহক প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনে মোট সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই লেনদেন সীমা কার্যকর রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় লেনদেন সীমার অঙ্কে সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে।

বর্তমানে এমএফএস গ্রাহকেরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। তবে নির্বাচনকালীন প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন গ্রাহক দিনে অন্য গ্রাহকের কাছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে এক হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থানান্তর করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

এ ছাড়া নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটিআর প্রতিবেদনে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে ব্যত্যয় ঘটলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নির্বাচনকালীন বিকাশ-নগদ-রকেটে এক হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়

Update Time : ০২:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় লেনদেনের ওপর সাময়িক কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) একজন গ্রাহক প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনে মোট সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই লেনদেন সীমা কার্যকর রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় লেনদেন সীমার অঙ্কে সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে।

বর্তমানে এমএফএস গ্রাহকেরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। তবে নির্বাচনকালীন প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন গ্রাহক দিনে অন্য গ্রাহকের কাছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে এক হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ব্যাংকের অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থানান্তর করতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

এ ছাড়া নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটিআর প্রতিবেদনে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে ব্যত্যয় ঘটলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।