সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেলের দায় স্বীকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৫ Time View
ওসমান হাদি। ছবি : সংগৃহীত

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শেষে শনিবার রুবেল আহমেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে রুবেলের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন ২২ জানুয়ারি আদালত তার প্রথম দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে বহনকারী অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে ন্যস্ত করেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তারও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেলের দায় স্বীকার

Update Time : ০৯:৫৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ওসমান হাদি। ছবি : সংগৃহীত

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শেষে শনিবার রুবেল আহমেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে রুবেলের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন ২২ জানুয়ারি আদালত তার প্রথম দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজের পর নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে বহনকারী অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে ন্যস্ত করেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তারও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।