বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি
- Update Time : ০৫:২১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৩ Time View

বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে আয়োজন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
গত মঙ্গলবার লিখিত ওই চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন এবং এটি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম জাতীয় ভোট হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য উল্লেখ করে কংগ্রেস সদস্যরা বলেন, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অতীতের ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বলেও তারা চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি নাজুক ও অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, এই পরিস্থিতি লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থী এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তারা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের অবহিত রাখার এবং ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই একটি ব্রিফিং দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।













