সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিকা সংকটে দ্বীপবাসী সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা আগামীকাল থেকে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২২ Time View

পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে। শনিবার চলতি মৌসুমের শেষ দিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী সব পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত থাকলেও এবার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে নভেম্বর মাসজুড়ে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল, ফলে মৌসুমের শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সময় কমিয়ে দেওয়ার কারণে ভরা মৌসুমেও তারা প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি। এখন টানা ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে জীবিকা সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। মোট পর্যটকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হলেও ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত মুনাফা পাননি। অনেকে বিনিয়োগের টাকা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, তবে রোববার থেকে পর্যটকবাহী সব জাহাজ বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভ তো দূরের কথা, বরং লোকসানে পড়েছেন। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ মিলবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের প্রায় সব মানুষ পর্যটননির্ভর হওয়ায় হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় তারা হতাশ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েও দুই মাসে তা শোধ করতে পারেননি। পর্যটক বন্ধ থাকায় এখন ঋণের বোঝা আরও বেড়েছে। কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, বড় বিনিয়োগকারী ও সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয়রা বরাবরই বঞ্চিত, আর সরকারের বিধিনিষেধের চাপও তাদের ওপরই বেশি পড়ছে।

ব্যবসায়ীরা মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অথবা আরও কয়েক মাস পর্যটন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারি নির্দেশনায় সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলোকসজ্জা, উচ্চশব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা, সৈকতে মোটরচালিত যান চলাচল ও পলিথিন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জীবিকা সংকটে দ্বীপবাসী সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা আগামীকাল থেকে

Update Time : ০৫:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে। শনিবার চলতি মৌসুমের শেষ দিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী সব পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত থাকলেও এবার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে নভেম্বর মাসজুড়ে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল, ফলে মৌসুমের শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সময় কমিয়ে দেওয়ার কারণে ভরা মৌসুমেও তারা প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি। এখন টানা ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে জীবিকা সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। মোট পর্যটকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হলেও ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত মুনাফা পাননি। অনেকে বিনিয়োগের টাকা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, তবে রোববার থেকে পর্যটকবাহী সব জাহাজ বন্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে সরকার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভ তো দূরের কথা, বরং লোকসানে পড়েছেন। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ মিলবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের প্রায় সব মানুষ পর্যটননির্ভর হওয়ায় হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় তারা হতাশ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েও দুই মাসে তা শোধ করতে পারেননি। পর্যটক বন্ধ থাকায় এখন ঋণের বোঝা আরও বেড়েছে। কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, বড় বিনিয়োগকারী ও সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয়রা বরাবরই বঞ্চিত, আর সরকারের বিধিনিষেধের চাপও তাদের ওপরই বেশি পড়ছে।

ব্যবসায়ীরা মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অথবা আরও কয়েক মাস পর্যটন চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারি নির্দেশনায় সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলোকসজ্জা, উচ্চশব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা, সৈকতে মোটরচালিত যান চলাচল ও পলিথিন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।