গুম ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’: বিচারপতি মঈনুল
- Update Time : ০৪:৫৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩০ Time View

গুমকে একটি চরম ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে সাবেক বিচারপতি ও গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, গুমের যন্ত্রণা অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, মৃত্যুর পর অন্তত পরিবার শোক প্রকাশের সুযোগ পায়, ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী দাফন-কাফন সম্পন্ন করতে পারে এবং এক ধরনের মানসিক সমাপ্তি টানতে পারে। কিন্তু গুমের ক্ষেত্রে পরিবার অনিশ্চয়তার এক অন্তহীন অন্ধকারে আটকে থাকে—প্রিয়জন বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর তারা কখনোই নিশ্চিতভাবে জানতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গুম কেবল একজন ব্যক্তিকে নিখোঁজ করে না; এটি একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ঠেলে দেয়। পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর আশা ও হতাশার দোলাচলে জীবনযাপন করে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং একঘরে হয়ে পড়ার মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র, আইনের শাসন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাজ্জাদ হোসেন ও নূর খান লিটন; মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা; বিলিয়ার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ একরামুল হক এবং বিলিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত এম. মারুফ জামান। বক্তারা গুমের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।













