সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: সরকার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৭ Time View

 

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফল এলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই দাবির পক্ষে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফটোকার্ডটিতে শিরোনাম ছিল— নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদ প্রথম দিন থেকেই স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে সংবিধানকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার আনতে নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো সময়জুড়ে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই।

সবশেষে বিবৃতিতে সরকার স্পষ্ট করে জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। বরং এতে কেবল নির্বাচিত সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: সরকার

Update Time : ১০:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

 

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফল এলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই দাবির পক্ষে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফটোকার্ডটিতে শিরোনাম ছিল— নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদ প্রথম দিন থেকেই স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে সংবিধানকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার আনতে নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো সময়জুড়ে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বিধান বা ইঙ্গিত নেই।

সবশেষে বিবৃতিতে সরকার স্পষ্ট করে জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। বরং এতে কেবল নির্বাচিত সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।