সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও পেছাল হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৮ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, নির্ধারিত তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন করে সময় নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে একই আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে শরিফ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর আঘাত এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

গত জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ

মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেও এ হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আবারও পেছাল হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়

Update Time : ১০:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, নির্ধারিত তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন করে সময় নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে একই আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওই নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে শরিফ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর আঘাত এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

গত জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম

মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেও এ হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।