সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৮ Time View

 

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

সরকারের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মামলা প্রত্যাহার করবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা দায়েরের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন থাকায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং এটি অন্যান্য সকল আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

Update Time : ০৫:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

সরকারের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মামলা প্রত্যাহার করবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা দায়েরের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন থাকায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং এটি অন্যান্য সকল আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।