সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আছাদুজ্জামান মিয়া ও পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ২২ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৩ Time View

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা প্লট, ফ্ল্যাট ও প্রায় সাড়ে ১৪ একর জমি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত এসব সম্পদের মোট মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন—আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন এবং মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। এ ছাড়া তার শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা এবং শ্যালক হারিচুর রহমানের নামে থাকা সম্পদও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার গুলশানের জোয়ার সাহারা এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয়তলা আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে একটি করে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে প্লট এবং আফতাব নগরে ৬ কাঠা জমি। পাশাপাশি গাজীপুর, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জমিও রয়েছে। এসব সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ৩০ একর।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া, তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান এবং একটি অনুসন্ধান টিম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে—অভিযুক্তরা তাদের স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতি রোধে এসব সম্পদ জব্দ করা জরুরি। এসব যুক্তির ভিত্তিতেই আদালত সম্পদ জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা থেকে র‍্যাব আছাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আছাদুজ্জামানের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রথম প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ও পরিবারের নামে থাকা বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাটের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়। মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে তাকে ‘সম্পদের পাহাড় গড়া সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমির তথ্য উঠে আসে।

উল্লেখ্য, আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আছাদুজ্জামান মিয়া ও পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ২২ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

Update Time : ০২:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা প্লট, ফ্ল্যাট ও প্রায় সাড়ে ১৪ একর জমি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত এসব সম্পদের মোট মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন—আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন এবং মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। এ ছাড়া তার শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা এবং শ্যালক হারিচুর রহমানের নামে থাকা সম্পদও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার গুলশানের জোয়ার সাহারা এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয়তলা আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে একটি করে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে প্লট এবং আফতাব নগরে ৬ কাঠা জমি। পাশাপাশি গাজীপুর, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জমিও রয়েছে। এসব সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ৩০ একর।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া, তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান এবং একটি অনুসন্ধান টিম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে—অভিযুক্তরা তাদের স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতি রোধে এসব সম্পদ জব্দ করা জরুরি। এসব যুক্তির ভিত্তিতেই আদালত সম্পদ জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা থেকে র‍্যাব আছাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আছাদুজ্জামানের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রথম প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ও পরিবারের নামে থাকা বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাটের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়। মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে তাকে ‘সম্পদের পাহাড় গড়া সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমির তথ্য উঠে আসে।

উল্লেখ্য, আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।