নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা, বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
- Update Time : ০৯:৫৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৫০ Time View

নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিশন, কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।
প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোট ২০টি বেতন স্কেল প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পেনশন, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও প্রায় একই হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কমিশনের এই সুপারিশ ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন উপদেষ্টা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানো বৈষম্যমূলক হতে পারে। তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের আয় সীমিত থাকায় সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা সমীচীন নয়।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তিনি বলেন, কমিটি গঠিত হলে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তবে বেতন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের উৎস কীভাবে জোগান দেওয়া হবে—সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ধারণা দেননি।
উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা বাস্তবে হয়নি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।













