নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না
- Update Time : ১২:৩০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৫ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর সারাদেশের ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে নেমেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫’ মেনে চলতে হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রচারণায় সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সভা, শোভাযাত্রা বা প্রচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, ভীতি সৃষ্টি বা বিশৃঙ্খলা করা যাবে না।
প্রচারণার কর্মসূচি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, যাতে একাধিক প্রার্থীর কর্মসূচির মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায়। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কোনো সড়ক বা জনপথে সভা-সমাবেশ করা নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের বাইরে বা বিদেশের মাটিতে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
লিফলেট, পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রচারণায় পোস্টার বা অপচনশীল সামগ্রী যেমন পলিথিন, প্লাস্টিক কিংবা রেক্সিন ব্যবহার করা যাবে না। দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো যানবাহনে লিফলেট বা ফেস্টুন সাঁটানো নিষিদ্ধ।
ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ব্যানার ও ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো রঙের। ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট এবং ফেস্টুনের আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা যাবে না। দেয়ালে লিখে বা অঙ্কন করে প্রচারণা চালানো এবং গেট বা তোরণ নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কোনো প্রার্থীর ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডের ওপর অন্য প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী টাঙানো যাবে না। পাশাপাশি এসব সামগ্রীর কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন, বিকৃতি বা বিনষ্ট করাও নিষিদ্ধ।
পরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়াকড়ি। ট্রাক, বাস, নৌযান কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে মিছিল, জনসভা বা শোডাউন করা যাবে না। মশাল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দলীয় প্রধান বা সাধারণ সম্পাদক যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারলেও সেখান থেকে কোনো লিফলেট বা প্রচারসামগ্রী নিক্ষেপ করা যাবে না।
বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তার আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে হবে। অথবা ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড প্রতি একটি এবং একটি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না।
ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কারো চেহারা বিকৃত করা, ভুল তথ্য বা ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন-সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট শেয়ার বা প্রকাশ করা যাবে না। প্রার্থী ও তার নির্বাচনী এজেন্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি-সংক্রান্ত তথ্য প্রচারণার আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, অশালীন বক্তব্য এবং নারী, সংখ্যালঘু বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব উপাসনালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।
শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তিনটি মাইক্রোফোন বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন বাদে ২৯৮টি আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। এর আগে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ে ১ হাজার ৮৫৫টি বৈধ ও ৭২৫টি বাতিল হয়। আপিল শুনানি শেষে ৪৩৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: বাসস













