সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম আসামির আত্মসমর্পণ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০১:০০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৭ Time View
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ছবি : সংগৃহীত

 

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নিজের দণ্ড স্থগিতের আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় তিনি এ আবেদন করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। আদেশে বলা হয়, আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বাকি অভিযোগগুলোর জন্য পৃথক দণ্ডাদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে অবৈধভাবে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার বা ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।

এর আগে ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। দীর্ঘ সময় পর অবশেষে এই মামলার মূল আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করায় নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হলো।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম আসামির আত্মসমর্পণ

Update Time : ০১:০০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ছবি : সংগৃহীত

 

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নিজের দণ্ড স্থগিতের আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় তিনি এ আবেদন করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। আদেশে বলা হয়, আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বাকি অভিযোগগুলোর জন্য পৃথক দণ্ডাদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে অবৈধভাবে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার বা ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।

এর আগে ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। দীর্ঘ সময় পর অবশেষে এই মামলার মূল আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করায় নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হলো।