সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল,বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিতে হবে পরবর্তী সরকারকেই  

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩০৭ Time View

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নে যে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তার দায় শেষ পর্যন্ত পরবর্তী সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে। এমনকি ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নাও করতে পারে।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নকারী পে কমিশন বুধবার (আজ) বিকেল ৫টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর মাত্র ২০ দিন সময় রয়েছে—এই স্বল্প সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশনের সুপারিশ সাধারণত হুবহু বাস্তবায়ন করা হয় না। প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একাধিক ধাপে কমিটি গঠন করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তবে বর্তমান সরকার একেবারেই এটি বাস্তবায়ন করবে না—এমন কথাও তিনি নিশ্চিতভাবে বলেননি।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কতটা বাড়তে পারে বেতন
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে পুরোপুরি কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।

এদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাজারে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা নেই
বেতন বৃদ্ধি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এতে বাজারে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে এর সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেরও কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, দেশের আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখেই পে কমিশন তাদের সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পে-স্কেল,বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিতে হবে পরবর্তী সরকারকেই  

Update Time : ০৬:৩৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নে যে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তার দায় শেষ পর্যন্ত পরবর্তী সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে। এমনকি ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নাও করতে পারে।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নকারী পে কমিশন বুধবার (আজ) বিকেল ৫টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর মাত্র ২০ দিন সময় রয়েছে—এই স্বল্প সময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশনের সুপারিশ সাধারণত হুবহু বাস্তবায়ন করা হয় না। প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য একাধিক ধাপে কমিটি গঠন করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তবে বর্তমান সরকার একেবারেই এটি বাস্তবায়ন করবে না—এমন কথাও তিনি নিশ্চিতভাবে বলেননি।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কতটা বাড়তে পারে বেতন
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে পুরোপুরি কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।

এদিকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাজারে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা নেই
বেতন বৃদ্ধি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এতে বাজারে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে এর সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেরও কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, দেশের আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখেই পে কমিশন তাদের সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।