ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ
- Update Time : ০৯:১৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২২ Time View

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট সংক্রান্ত কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে গণভোটের পক্ষে আয়োজিত প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন আর কখনো দেশ পরিচালিত না হয়—এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের কাঁধে দিয়ে গেছেন। অতীতের ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারি কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে জানা গেছে—প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা ভিন্ন কথা বলছে, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি সামনে আনছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন—তারা আমাদের দুটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একদিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে না আসে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি স্পষ্ট পথনকশা তৈরি করা। গণভোট এই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট ব্যবস্থা নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট একটি নতুন অভিজ্ঞতা। তাই জনগণকে বোঝাতে হবে—ব্যালটে কীভাবে ভোট দিতে হয় এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের তাৎপর্য কী। ব্যালটে থাকা ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক ধরে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে।
অতীতের উদাহরণ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, এক সময় এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চদশ সংশোধনী একটি কমিটির মাধ্যমে হলেও শেষ পর্যন্ত তা একক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়িত হয়। ভবিষ্যতে যেন সংবিধান সংশোধন আর কখনো ব্যক্তিগত ইচ্ছার খেলায় পরিণত না হয়—এটি নিশ্চিত করতেই গণভোট অপরিহার্য।













