সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় পলক ‘ছাত্রদের দাবিতে পদত্যাগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১১৯ Time View

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দাবি করেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দিতে গিয়ে পলক বলেন, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি ছাত্রদের দাবির পক্ষে কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তার পদত্যাগের ইচ্ছার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি দেওয়াসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি (ডিসচার্জ) চেয়ে আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।

শুনানিতে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলকের এই সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা বা আইনগত দায় নেই। তাই তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

অপরদিকে পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের আইনজীবী মনজুর আলম বলেন, জয়ের নির্দেশে পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন—এমন অভিযোগ আনা হলেও ওই পোস্টে জয়কে ট্যাগ করা হয়নি। এমনকি জয় নিজেও সেখানে কোনো লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার দেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জয় সরকারের অবৈতনিক উপদেষ্টা ছিলেন, তার অধীনে কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনিক কাঠামো ছিল না। ফলে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত নয়।

মনজুর আলম আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের মা শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণেও তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় পলক ‘ছাত্রদের দাবিতে পদত্যাগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম’

Update Time : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দাবি করেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে বক্তব্য দিতে গিয়ে পলক বলেন, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি ছাত্রদের দাবির পক্ষে কথা বলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তার পদত্যাগের ইচ্ছার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি দেওয়াসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি (ডিসচার্জ) চেয়ে আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।

শুনানিতে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলকের এই সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা বা আইনগত দায় নেই। তাই তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

অপরদিকে পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের আইনজীবী মনজুর আলম বলেন, জয়ের নির্দেশে পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন—এমন অভিযোগ আনা হলেও ওই পোস্টে জয়কে ট্যাগ করা হয়নি। এমনকি জয় নিজেও সেখানে কোনো লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার দেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জয় সরকারের অবৈতনিক উপদেষ্টা ছিলেন, তার অধীনে কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনিক কাঠামো ছিল না। ফলে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত নয়।

মনজুর আলম আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের মা শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণেও তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।