সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বেশি প্রভাবশালী: ইফতেখারুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪৬ Time View

 

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের তুলনায় আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশ বাস্তবে বেশি ক্ষমতাবান—এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর ভাষায়, কোন নথিতে স্বাক্ষর হবে, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের হাতে থাকে না; বরং আমলাতন্ত্রের ভেতরের অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই তা নির্ধারণ করেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা’ শীর্ষক টিআইবির একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর ক্ষেত্রে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিরোধক মহল—বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশের অন্তর্ঘাতমূলক চাপের কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

সরকার কেন এমন নতিস্বীকার করছে—এ প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে দীর্ঘদিন সরকারকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখেছেন, কোন সিদ্ধান্তে কী থাকবে বা থাকবে না—তা নির্ধারণ করে দেয় আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাবান অংশ। এখানে শুধু গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, রাজনৈতিক স্বার্থও প্রতিফলিত হয়।

টিআইবির উপস্থাপনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খুব অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ অধ্যাদেশ একতরফাভাবে, অংশীজনদের যথাযথ সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য লোকদেখানোভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দায় সারা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে—এমনকি বিরাগভাজন হয়েও—অংশীজনরা পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুত সংশোধনও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উপেক্ষিত হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অংশীজনদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর প্রতিটিতেই জাতীয় স্বার্থের তুলনায় আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ–সম্পৃক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা এবং স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের নজির স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বেশি প্রভাবশালী: ইফতেখারুজ্জামান

Update Time : ০২:৪০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের তুলনায় আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশ বাস্তবে বেশি ক্ষমতাবান—এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর ভাষায়, কোন নথিতে স্বাক্ষর হবে, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের হাতে থাকে না; বরং আমলাতন্ত্রের ভেতরের অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই তা নির্ধারণ করেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা’ শীর্ষক টিআইবির একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর ক্ষেত্রে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিরোধক মহল—বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশের অন্তর্ঘাতমূলক চাপের কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

সরকার কেন এমন নতিস্বীকার করছে—এ প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে দীর্ঘদিন সরকারকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখেছেন, কোন সিদ্ধান্তে কী থাকবে বা থাকবে না—তা নির্ধারণ করে দেয় আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাবান অংশ। এখানে শুধু গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, রাজনৈতিক স্বার্থও প্রতিফলিত হয়।

টিআইবির উপস্থাপনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খুব অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ অধ্যাদেশ একতরফাভাবে, অংশীজনদের যথাযথ সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য লোকদেখানোভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দায় সারা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে—এমনকি বিরাগভাজন হয়েও—অংশীজনরা পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুত সংশোধনও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উপেক্ষিত হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অংশীজনদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর প্রতিটিতেই জাতীয় স্বার্থের তুলনায় আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ–সম্পৃক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা এবং স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের নজির স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।