ওসমান হাদি হত্যা মামলা: আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন সঞ্জয় ও ফয়সাল
- Update Time : ০৮:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৮ Time View

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি সঞ্জয় চিসিম ও ফয়সাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তারা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে ১৫ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিমকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাদের ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তিন দিন এবং ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুই দফা রিমান্ড শেষে ২৬ ডিসেম্বর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায় তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বর র্যাব-১১-এর একটি দল নরসিংদী থেকে ফয়সালকে আটক করে। পরে তাকে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর হাদি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে সঞ্জয় ও ফয়সাল দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। অপর আসামি সিবিয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত ওসমান হাদি হত্যা মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি চারজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্য আসামিরা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির ও আমিনুল। এদের মধ্যে ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক ও আমিনুল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।













