আজ থেকে কার্যকর এনইআইআর: অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কেই বন্ধ হবে
- Update Time : ১২:২২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৫১ Time View

আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এর ফলে নতুন করে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া অবৈধ কিংবা নিবন্ধনবিহীন মোবাইল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্টকে থাকা মোবাইল ফোনের আইএমইআই জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আজ থেকেই এনইআইআর কার্যক্রম শুরু হলো।
এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই এই মুহূর্তে বন্ধ করা হবে না। ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা এবং জমা দেওয়া আইএমইআই তালিকাভুক্ত ফোনগুলোও সচল থাকবে। কেবলমাত্র নতুনভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া ডিভাইসগুলোকেই যাচাইয়ের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, প্রবাসীরা তাঁদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এসব হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, আজ উপদেষ্টা পরিষদ যদি মোবাইল আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এনইআইআর বাস্তবায়ন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর গ্রে মার্কেটের মোবাইল ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন। পরে কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলা হলেও বিটিআরসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।
বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এনইআইআর চালু করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই মিলিয়ে ডিভাইস শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক সচল রাখা হবে। তবে কল বা মেসেজ রেকর্ড করার কোনো সক্ষমতা এই সিস্টেমের নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকার কারণে নজরদারি ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার নিরাপত্তা দুর্বল হলে তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চুরি হওয়া ও অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণে ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আগেই এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।













