সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহে জনজীবনে চরম ভোগান্তি

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৮:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২২১ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহে চরম দুর্ভোগ

তিতাস গ্যাসের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো খুব কম চাপে সরবরাহ হচ্ছে। এর ফলে শহরের ফ্ল্যাটবাড়ি ও বহুতল ভবনের বাসিন্দারা প্রতিদিনই রান্নাবান্না ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহ কেন্দ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অথচ সেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীরাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।

গত কয়েক মাস ধরে এই সমস্যা চলমান থাকলেও গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা, সময়সূচি বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্না অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে, শিশুদের খাবার প্রস্তুত করা যাচ্ছে না, অফিসগামী মানুষজন সময়মতো খাবার খেতে পারছেন না, আর বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

নতুন প্রতিদিন-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি শহরের বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবন ঘুরে ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলায় আগুন জ্বলে না। বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন গৃহিণী বলেন, “ছোট বাচ্চা নিয়ে আমরা সবচেয়ে বিপদে আছি। কখন রান্না হবে, কখন হবে না—কিছুই জানা যায় না।”
একজন অফিসগামী বাসিন্দা জানান, “সকালবেলা গ্যাস না থাকায় অনেক দিন না খেয়েই অফিসে যেতে হয়।”

এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় নগরবাসী এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা মনে করছেন, এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং চরম অব্যবস্থাপনার ফল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সর্বস্তরের মানুষ অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাননীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহদয়ের-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। নগরবাসীর আশা, জেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তিতাস  গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং দ্রুত একটি কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মানুষ আর প্রতিশ্রুতি নয়—তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান চান। অন্যথায় এই জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহে জনজীবনে চরম ভোগান্তি

Update Time : ০৮:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহে চরম দুর্ভোগ

তিতাস গ্যাসের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো খুব কম চাপে সরবরাহ হচ্ছে। এর ফলে শহরের ফ্ল্যাটবাড়ি ও বহুতল ভবনের বাসিন্দারা প্রতিদিনই রান্নাবান্না ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহ কেন্দ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অথচ সেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীরাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।

গত কয়েক মাস ধরে এই সমস্যা চলমান থাকলেও গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা, সময়সূচি বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্না অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে, শিশুদের খাবার প্রস্তুত করা যাচ্ছে না, অফিসগামী মানুষজন সময়মতো খাবার খেতে পারছেন না, আর বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

নতুন প্রতিদিন-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি শহরের বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবন ঘুরে ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলায় আগুন জ্বলে না। বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন গৃহিণী বলেন, “ছোট বাচ্চা নিয়ে আমরা সবচেয়ে বিপদে আছি। কখন রান্না হবে, কখন হবে না—কিছুই জানা যায় না।”
একজন অফিসগামী বাসিন্দা জানান, “সকালবেলা গ্যাস না থাকায় অনেক দিন না খেয়েই অফিসে যেতে হয়।”

এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় নগরবাসী এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা মনে করছেন, এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং চরম অব্যবস্থাপনার ফল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সর্বস্তরের মানুষ অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাননীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহদয়ের-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। নগরবাসীর আশা, জেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে তিতাস  গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং দ্রুত একটি কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মানুষ আর প্রতিশ্রুতি নয়—তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান চান। অন্যথায় এই জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।