সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গভীর রাতেও শাহবাগে অবস্থান, শীত উপেক্ষা করে জেগে নারী–শিশুরা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৬ Time View
শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে শীত উপেক্ষা করে মানুষের অবস্থান। ২৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টা, ২০২৫, শাহবাগ মোড়, ঢাকা

 

ঘড়ির কাঁটা যখন রাত তিনটার ঘরে, রাজধানীর তাপমাত্রা তখন নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে শীত, চারপাশে নীরবতা—তবু শাহবাগ মোড়ে খোলা আকাশের নিচে জেগে আছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। বাবার কোলে বসে ছোট্ট শাফিকুল ইসলাম ফারাজ, পাশে মা কোলে আরেক শিশু শারিফুল ইসলাম ফায়দা। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শাহবাগে এসেছেন আসিফুল ইসলাম। একটাই দাবি—ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার।

আসিফুল ইসলাম বলেন, তাঁরা এখানে এসেছেন ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে। শীতের মধ্যেও সন্তানদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি চান, তাঁর সন্তানেরা বড় হয়ে হাদির মতো সত্য ও প্রতিবাদের পথে চলুক।

শুক্রবার দিবাগত রাতের এই দৃশ্য রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের। শীত উপেক্ষা করে যারা অবস্থান করছেন, তাঁদের কণ্ঠে একটাই স্লোগান—‘হাদি হত্যার বিচার চাই’। কেউ কবিতা আবৃত্তি করছেন, কেউ হাদিকে নিয়ে গান গাইছেন। আবার কেউ কেউ একটু হেঁটে গিয়ে দূর থেকে হাদির কবর জিয়ারত করে ফিরে আসছেন।

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শুক্রবার সারারাত অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার পর থেকেই শাহবাগে ভিড় বাড়তে থাকে। নারী–পুরুষের পাশাপাশি শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। আজিমপুর থেকে আসা মমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলার প্রেমিক হয়ে হাদি জীবন দিয়েছেন। যারা সত্যের পথে থাকে, তারা কখনো ভয় পায় না। প্রয়োজনে আমিও হাদির মতো জীবন দিতে প্রস্তুত।”

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ কর্মসূচি চলবে। এদিন সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে আসার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “এই কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।”

রাত আড়াইটার দিকে তৃণমূল এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনতাসীর মাহমুদ সমাবেশস্থলে এসে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠান ভাঙার রাজনীতি নয়, প্রতিষ্ঠান গড়ার রাজনীতি করতে হবে। হাদি ভাই সেটাই চেয়েছিলেন।” ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। তিনি সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

রাত সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগে তখনো নতুন মানুষ আসছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ অবস্থান শেষে ফিরে যাচ্ছেন। জিগাতলা থেকে স্ত্রী ও ছয় বছরের মেয়ে আসফিয়াকে নিয়ে আসা মোহাম্মদ আশরাফুল কয়েক ঘণ্টা থাকার পর বাড়ির পথে রওনা হন। তিনি বলেন, “শিশুকে নিয়ে বেশি সময় থাকা কঠিন, কিন্তু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আবারও আসব।”

কনকনে শীতের মধ্যেও শাহবাগে জেগে থাকা মানুষগুলোর চোখে একটাই প্রত্যাশা—হাদি হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গভীর রাতেও শাহবাগে অবস্থান, শীত উপেক্ষা করে জেগে নারী–শিশুরা

Update Time : ০৭:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে শীত উপেক্ষা করে মানুষের অবস্থান। ২৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টা, ২০২৫, শাহবাগ মোড়, ঢাকা

 

ঘড়ির কাঁটা যখন রাত তিনটার ঘরে, রাজধানীর তাপমাত্রা তখন নেমে এসেছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে শীত, চারপাশে নীরবতা—তবু শাহবাগ মোড়ে খোলা আকাশের নিচে জেগে আছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। বাবার কোলে বসে ছোট্ট শাফিকুল ইসলাম ফারাজ, পাশে মা কোলে আরেক শিশু শারিফুল ইসলাম ফায়দা। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শাহবাগে এসেছেন আসিফুল ইসলাম। একটাই দাবি—ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার।

আসিফুল ইসলাম বলেন, তাঁরা এখানে এসেছেন ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে। শীতের মধ্যেও সন্তানদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি চান, তাঁর সন্তানেরা বড় হয়ে হাদির মতো সত্য ও প্রতিবাদের পথে চলুক।

শুক্রবার দিবাগত রাতের এই দৃশ্য রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের। শীত উপেক্ষা করে যারা অবস্থান করছেন, তাঁদের কণ্ঠে একটাই স্লোগান—‘হাদি হত্যার বিচার চাই’। কেউ কবিতা আবৃত্তি করছেন, কেউ হাদিকে নিয়ে গান গাইছেন। আবার কেউ কেউ একটু হেঁটে গিয়ে দূর থেকে হাদির কবর জিয়ারত করে ফিরে আসছেন।

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শুক্রবার সারারাত অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার পর থেকেই শাহবাগে ভিড় বাড়তে থাকে। নারী–পুরুষের পাশাপাশি শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। আজিমপুর থেকে আসা মমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলার প্রেমিক হয়ে হাদি জীবন দিয়েছেন। যারা সত্যের পথে থাকে, তারা কখনো ভয় পায় না। প্রয়োজনে আমিও হাদির মতো জীবন দিতে প্রস্তুত।”

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ কর্মসূচি চলবে। এদিন সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে আসার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “এই কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।”

রাত আড়াইটার দিকে তৃণমূল এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনতাসীর মাহমুদ সমাবেশস্থলে এসে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠান ভাঙার রাজনীতি নয়, প্রতিষ্ঠান গড়ার রাজনীতি করতে হবে। হাদি ভাই সেটাই চেয়েছিলেন।” ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। তিনি সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

রাত সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগে তখনো নতুন মানুষ আসছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘক্ষণ অবস্থান শেষে ফিরে যাচ্ছেন। জিগাতলা থেকে স্ত্রী ও ছয় বছরের মেয়ে আসফিয়াকে নিয়ে আসা মোহাম্মদ আশরাফুল কয়েক ঘণ্টা থাকার পর বাড়ির পথে রওনা হন। তিনি বলেন, “শিশুকে নিয়ে বেশি সময় থাকা কঠিন, কিন্তু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আবারও আসব।”

কনকনে শীতের মধ্যেও শাহবাগে জেগে থাকা মানুষগুলোর চোখে একটাই প্রত্যাশা—হাদি হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার।