ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব, কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র
- Update Time : ১১:১৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৫৬ Time View

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে তাকে তলব করা হয়। কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, নয়াদিল্লি, কলকাতা ও ভারতের অন্যান্য শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্ভূত উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করা হয়েছে। বৈঠকে ভারতে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ সময় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বান্ধেও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও উপহাইকমিশনগুলোর সামনে বিক্ষোভ, হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ঘটনায় ঢাকা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব—এই বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো প্রণয় ভার্মাকে তলব করল বাংলাদেশ। আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে বিভিন্ন ইস্যুতে এ নিয়ে অন্তত ছয়বার ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হলো, যা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সে সময় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি তারা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেও থাকে, তাহলে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগের বিষয়টিও ভারতের হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে দুই দেশের কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে গত শনিবার রাতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতজুড়ে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ককে একটি নতুন সংকটময় পর্যায়ে ঠেলে দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, উত্তেজনা প্রশমনে উভয় দেশের দায়িত্বশীল ও সংযত কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি।













